আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পুষ্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফল ভিটামিন এবং খনিজগুলির জন্য সর্বোত্তম উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়। রাতে ফল খাওয়া নিয়ে অনেক রকম কথা শোনা যায়। কারও মতে, রাতে ফল খাওয়া ভীষণ ক্ষতিকর। আবার কেউ নিশ্চিন্তে রাতে ফল খান, অথচ কোনওরকম অসুস্থতাই অনুভব করেন না। তা হলে কি রাতে ফল খাওয়া আসলে ক্ষতিকর নয়?
বেশিরভাগ মানুষেরই রাতে খাওয়াদাওয়ার পর কিছু একটা মিষ্টি খেতে ইচ্ছা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় দোকান থেকে কেনা মিষ্টি না খেয়ে বরং ফলের টুকরো খাওয়া অনেক ভাল। কারণ, ফলে সুগারের পরিমাণ দোকানের কেনা মিষ্টির থেকে অনেক কম থাকে এবং তা স্বাস্থ্যকরও। তবে রাতে শোওয়ার আগে অনেকটা ফল একসঙ্গে খেলে ঘুম নষ্ট হতে পারে। কারণ, ফলে থাকা শর্করা আমাদের অনেকক্ষণ জেগে থাকতে সাহায্য করে।
যদি আপনি ফলের মাধ্যমে পুষ্টি পেতে চান, তাহলে এগুলি ব্রেকফাস্টের সময় খেলে উপকার পাবেন। এর বাইরে, যদি আপনি ফিটনেস ফ্রিক হন এবং ব্যায়াম করতে পছন্দ করেন, তাহলে আপনি ব্যায়ামের পরে এবং শুরু করার আগে ফল খেতে পারেন। লুক আরও লিখেছেন যে যদি আপনার শরীর রাতে ফল খাওয়ার জন্য উপযুক্ত হয়, তাহলে আপনি খেতে পারেন।
আয়ুর্বেদ অনুসারে, খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর ফল খাওয়া উচিত। আর যদি রাতে ফল খেতে হয়, তা হলে শুতে যাওয়ার অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা আগে ফল খাওয়া উচিত। ফল অনেক সহজে এবং তাড়াতাড়ি হজম হয়। পেট ভরতি খাওয়ার পর ফল খেলে খাবারের আগে ফল হজম হয়ে যায়। ফলের পুষ্টিগুণ শরীরে দ্রুত প্রবেশ করার ফলে খাবারের অনেক পুষ্টিগুণ শরীরে শোষিত হয় না। হজমের সমস্যা হতে পারে। রাতে প্লেট ভর্তি ফল খাবেন না। আপনি যদি মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করে, তবে শুধু একটি টুকরো ফল নিন যাতে চিনি কম এবং ফাইবার বেশি থাকে, যেমন তরমুজ, নাশপাতি বা কিউই। এছাড়াও, ফল খাওয়ার পরপরই ঘুমাবেন না।
বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় ফল খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। ঘুমের নিয়মেও হেরফের ঘটে সন্ধ্যায় ফল খাওয়া হলে। বিভিন্ন ফলেই অঢেল পুষ্টির উপাদান থাকে। তার থেকে কর্মশক্তি বাড়ে। সন্ধ্যায় কাজের শেষে সেই খাদ্য খেলে কর্মক্ষমতা কাজে লাগে না। কিন্তু ঘুমও আসে না।