ক্যান্সারের কারণে ২০১৭ সালে মৃত্যু হয়েছিল লিন্ডা লুইস টোরেলোর। নিউ ইয়র্কের অরেঞ্জটাউনের তাপ্পান রিফর্মড চার্চের কবরস্থানে তাঁর ছেলে মাইকেল মারফি তাঁকে সমাহিত করেছিলেন। যদিও , কয়েকদিন আগে অদ্ভুত এক সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। ফেসবুকে তিনি একটি পোস্ট করেন এবং জানান এক ব্যক্তি প্রায় প্রতিদিন তার মায়ের সমাধির কাছে আসছেন। মল ভরা ব্যাগ রেখে যাচ্ছেন মায়ের সমাধির উপর , মূত্রত্যাগ করে যাচ্ছেন!

এই অদ্ভুত ধরণের সমস্যার শুরু হয়েছিল কয়েক মাস আগে। মাইকেল একটি মল ভরা ব্যাগ খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁর মায়ের সমাধিতে। শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন , হয়তো কেউ ভুলবশত কুকুর হাঁটাতে এসে ব্যাগটি সেখানে রেখে গিয়েছে। কিন্তু, এর পরদিন মাইকেল একইরকম আরেকটি মল-মূত্র ভরা ব্যাগ মায়ের সমাধিতে গিয়ে খুঁজে পেয়েছিলেন। বেশ কিছুদিন পরপর এরকম চলার পর স্থানীয় পুলিশে খবর দিয়েছিলেন মাইকেল। ওই কবরস্থানে পুলিশ একটি গোপন ক্যামেরা স্থাপন করেছিল।
আর এরপরই সবটা পরিষ্কার হয়েছে যায়, এক ব্যক্তি একটি এসইউভি গাড়ি নিয়ে প্রতিদিন ওই কবরস্থানে আসেন। লিন্ডা লুইস টোরেলোর সমাধির দিকে গাড়ি থেকে নেমে সোজা এগিয়ে আসেন। তারপর সমাধিতে ট্রাউজার নামিয়ে প্রস্রাব করেন, অথবা মলমূত্র ভরা ব্যাগ ফেলে যান। এমনকি, তাঁর এই ‘স্বাভাবিক রুটিনে’ তাঁর স্ত্রী তাঁকে সহায়তা করেন! অবশ্য ওই ব্যক্তিকে ভিডিয়ো দেখে শনাক্তও করতে পেরেছেন মাইকেল। নিউ জার্সির বার্গেন কাউন্টির বাসিন্দা তিনি, মাইকেলের সত বাবা!
মাইকেলের মায়ের সঙ্গে ৭০-এর দশকে ওই ব্যক্তির বিয়ে হয়েছিল। যদিও তা বেশিদিন টেকেনি। লিন্ডা গর্ভবতী হওয়ার পর, তিনি সন্তানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চান না বলে জানিয়েছিলেন। তাঁদের পরিবারের কারোর সঙ্গে ১৯৭৬ সালের পর থেকে ওই ব্যক্তির কোনও যোগাযোগ ছিল না বলে দাবি করেছেন মাইকেল। কিন্তু তিনিই ফের মাইকেলদের পরিবারে সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছেন প্রায় ৫০ বছর পর।
ফেসবুকে মাইকেল বলেছেন, “আমার মায়ের সমাধিস্থল তিনি কীভাবে খুঁজে পেয়েছে, সেই বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। তবে প্রায় ৫০ বছর আগের একটি সমস্যা আবারও ফিরে এসেছে। প্রার্থনা করুন আমাদের জন্য! কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাসের প্রমাণ রয়েছে আমাদের কাছে। সবটা জানানো হয়েছে পুলিশ এবং সংবাদমাধ্যমকে।” ওই ব্যক্তির স্ত্রী এই জঘন্য কাজে যেভাবে তাঁকে সাহায্য করছেন, মাইকেলদের আরও অবাক করেছে সেটা।
তবে, মাইকেলকে পুলিশ জানিয়েছে, এই ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু করনীয় নেই তাদের। কারণ শারীরিক হিংসার কোনও নির্দিষ্ট হুমকি নেই। বর্তমানে আদালতে অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করছেন মাইকেল। কিন্তু, কেন বিবাহবিচ্ছেদের ৪৮ বছর পর, ওই ব্যক্তি মল-মূত্র ত্যাগ করছেন, তা এখনও জানা যায়নি তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর সমাধিতে।