Dainik Sangbad – দৈনিক সংবাদ
Image default
FEATURED ট্রেন্ডিং

ইনস্টাগ্রামে ৪৪,০০০ ফলোয়ার, পোস্টমর্টেমের পর স্ট্রেচারে পড়ে রইলো সেই তরুণীর মৃতদেহ

ফ্যাশন, ফুড, ট্র্যাভেল অ্যান্ড লাইফস্টাইল ব্লগার রিতিকা সিংয়ের ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যা ৪৪ হাজারের বেশি। কিন্তু তার মর্মান্তিক পরিণতি দেখে শোকস্তব্ধ সকলে।

উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় একটি বিল্ডিং থেকে নিচে পড়ে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিচয় ফ্যাশন ব্লগার রিতিকা সিং। পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ভাগ্যের পরিহাস পরিহাস বোধহয় এটাকেই বলে যে ব্লগারের ইনস্টাগ্রামে ৪৪ হাজারের বেশি ফলোয়ার রয়েছে, পোস্টমর্টেমের পর হাসপাতালের করিডোরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ট্রেচারে পড়ে ছিল তার নিথর দেহ। দূর থেকে শুধু মা-বাবা কাঁদছিল। মৃত তরুণী গাজিয়াবাদের বাসিন্দা এবং স্বামীকে ছেড়ে আগ্রায় তার প্রেমিকের সঙ্গে ‘লিভ-ইন রিলেশনশিপে’ বসবাস করছিলেন।

ফ্যাশন, ফুড, ট্র্যাভেল এবং লাইফস্টাইল ব্লগার রিতিকা সিংয়ের ইনস্টাগ্রামে ৪৪,০০০ এরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। তিনি ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং-এ অনেক লাইফস্টাইল পণ্য প্রচার করতেন।

আকাশের প্রেমের বিয়ে হয়েছিল রিতিকার সঙ্গে:

ব্লগার রিতিকার মরদেহ সংগ্রহ করতে আসা বাবা-মা এই হত্যার জন্য স্বামীর পাশাপাশি প্রেমিককে দায়ী করেছেন। রিতিকার স্বামী আকাশ গৌতম ও প্রেমিক বিপুল আগরওয়াল এই মৃত্যুর পেছনে একত্রে মিলে আছেন বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত বেকার আকাশ। খুনের দুদিন আগে থেকেই রিতিকা তার মাকে গাজিয়াবাদে বাড়িতে আসতে বলেছিল। কিন্তু স্বামীর ভয়ে তিনি যাননি। রিতিকার সঙ্গে প্রেমের বিয়ে করেছিলেন অভিযুক্ত আকাশ।

আকাশের সঙ্গে রিতিকার দেখা

গাজিয়াবাদের বাসিন্দা মঞ্জু দেবী জানিয়েছেন, রিতিকা দিদার বাড়ী আগ্রার কাছে ফিরোজাবাদের টুন্ডলায়। একবার ঋত্বিকা তার মামার বাড়িতে আসে। যেখানে আকাশ থাকত বাড়ির ঠিক সামনে। সেই থেকে তিনি রিতিকাকে অনুসরণ করতেন এবং যেখানেই যেতেন তাকে অনুসরণ করতেন। রীতিকা কে প্রেমের ফাঁদে ফেলতে গাজিয়াবাদেও গিয়েছিল আকাশ। সেই সময় আকাশের বিষয়টি গাজিয়াবাদের বিজয় নগর থানায়ও পৌঁছেছিল। সেখান থেকেই দুজনের বিয়ের বিষয়টি এগিয়ে যায়।

এরপর রিতিকার জীবনে আসেন বিপুল:

নিহতের মা জানান, জামাই আকাশ কোনো কাজ করত না। বাড়ির চাহিদা মেটাতে রিতিকা একটি স্কুলে কাজ শুরু করেন। বিপুল আগরওয়াল এই স্কুলের একজন অংশীদার ছিলেন। সেখান থেকেই তার সাথে রিতিকার পরিচয় হয় এবং কিছুদিন পর দুজনে একসঙ্গে থাকতে শুরু করে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করে স্বামী আকাশ।

চতুর্থ তলা থেকে ছিটকে পড়েন রিতিকা:

আগ্রায় শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে স্বামী আকাশ ওম শ্রী অ্যাপার্টমেন্টের চতুর্থ তলা থেকে হাত বেঁধে স্ত্রী রিতিকা সিংকে ছুড়ে ফেলে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই মেয়েটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনা ঘটানোর জন্য সে তার সঙ্গে নিজের বোনসহ আরও তিন সহযোগীকে নিয়ে এসেছিল।

হত্যার কোনো সন্দেহ ছিল না:

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশ ও গৌতম, তার মুখপাত্র কাজল ও কাজলের বন্ধু কুসমাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই অভিযুক্ত চেতন ও আনোয়ার এখনও পলাতক। পুলিশি জেরায় জানা গিয়েছে, স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে দুই মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিল প্রধান অভিযুক্ত। একজন নারী হওয়ায় প্রয়োজনে তিনি তাকে সহযোগিতা করবেন। কাজল ও কুশমার ধারণা ছিল না যে আকাশ তার স্ত্রী রিতিকাকে হত্যা করবে। কিন্তু ঘটনাস্থলে পাওয়া প্রমাণ এবং পুলিশি তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে অভিযুক্তরা সম্পূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে ওম শ্রী অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছেছিল। আকাশেরও একটা ব্যাগ ছিল। ঘটনার পর আকাশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

নীরবে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল

হত্যার আগে সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করেছিল আসামিরা। অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকতে কুসুমা আর কাজলের সাহায্য নেয় আকাশ। মহিলারা দ্বিতীয় ফ্ল্যাট নম্বর (601) সিকিউরিটি গার্ডের কাছে উল্লেখ করেন, যখন তাদের রিতিকার ফ্ল্যাটে (404) যেতে হতো। এর পেছনে তার উদ্দেশ্য ছিল হত্যার পর সে নীরবে পলাতক হয়ে যাবে এবং পুলিশ তাকে খুঁজে বের করতে পারবে না। কিন্তু ঋত্বিক ফ্ল্যাটের ভেতরে ঢুকতেই আকাশ ও বিপুলের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। হৈচৈ হয়। রিতিকা ও বিপুল আকাশ ও তার সঙ্গীদের হাত থেকে বাঁচতে হিমশিম খায়, হামলাকারীরা বিপুলকে হাত-পা বেঁধে বাথরুমে আটকে রাখে।

এরপর তিনি রিতিকার হাত বেঁধে গলায় স্কার্ফ বেঁধে অ্যাপার্টমেন্টের চতুর্থ তলা থেকে নিচে ফেলে দেন। রিতিকাকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার পর আকাশ নিচে নেমে তার মৃত্যু নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। এই পুরো ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

তদন্তে পুলিশ এখনও আকাশ ও রিতিকার মোবাইল খুঁজে পায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পলাতক আসামি চেতন ও আনোয়ার দুজনই মোবাইলটি সঙ্গে নিয়ে গেছে। বর্তমানে রিতিকাকে হত্যার পর তার বাবা সুরেন্দ্র সিং ও মা মঞ্জু দেবী ভীষণ শোকাহত।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় রিতিকার বাবা-মা জানান, বিয়ের পর থেকেই আকাশ তাদের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। রিতিকা তার পরিবারকে অনেকবার বলেছিল যে আকাশ তাকে হত্যা করতে চায়। তার মেয়ে আকাশ এর হাত থেকে জীবন বাঁচানোর জন্য গোপনে বসবাস করছিল। আকাশের কঠোর শাস্তি দাবি করছেন রিতিকার বাবা-মা।

Related posts

ফেসবুক বন্ধুর প্রেমে পড়লেন দুই সন্তানের মা! জানতে পেরে স্বামী নিলেন এক অভিনব পদক্ষেপ

News Desk

দুই পাক ঘুরেই দাড়িয়ে গেল কনে! বললো এই ছেলেকে বিয়ে করতে পারবো না! কারণ শুনে থ স্বজনরা

News Desk

প্রেমিকা কে পরীক্ষায় পাশ করাতে প্রেমিকার ছদ্মবেশে পরীক্ষা দিতে এলেন যুবক! তারপর…

News Desk