Dainik Sangbad – দৈনিক সংবাদ
Image default
ট্রেন্ডিং

পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান ব্যাক্তি হিসাবে বিবেচিত হন ইনি! ভাগ্যের জোর দেখলে অবাক হতে হয়

আজকে জানব এই বিশ্বের সবথেকে ভাগ্যবান মানুষকে নিয়ে। যিনি মৃত্যুর সম্মুখীন হয়েছেন বহুবার, কিন্তু তার কিছুই হয়নি। ফ্রাঙ্ক সালাক এনার নাম।

একটি ট্রেনে তিনি ১৯৬২ সালে ঘুরতে যাচ্ছিলেন। সেসময় লাইনচ্যুত হয় ট্রেনটি এবং ট্রেনটি পড়ে যায় হিমশীতল ক্যানিয়ন নদীতে। তাকে কিনারায় টেনে তোলেন প্রত্যক্ষদর্শীরা কিন্তু বাকি যাত্রীরা মারা যান তিনি বাদে। শুধুমাত্র একটি হাত ভেঙ্গে গিয়েছিল ফ্রাঙ্ক-এর এবং সে কিছুদিন ভুগেছিলো হাইপোথেমিয়াতে।

ফ্রাঙ্ক তার জীবনের প্রথম বিমান ভ্রমণ করার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ল্যান্ডিং করার সময় বিমানটি ভেঙ্গে যায় একবছর পর , দরজার কাছেই তার আসন ছিল এবং খুলে যায় এমন সময় দরজাটিও। তিনি এবং ফ্লাইট অ্যাটেন্ডডেন্ট বিমান থেকে ছিটকে বেড়িয়ে যান প্রচণ্ড বাতাসের টানে। বিমানটি ভেঙ্গে পড়ে মাটিতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই। আশ্চর্যজনক ভাবে বেঁচে যান ফ্রানক , তিনি মাঠের মধ্যে থাকা একটি বিশাল খড়ের গাদার উপর এসে পড়েন, কিন্তু ১৭ জন যাত্রী বিমানটির সাথেই মাটিতে আছার খেয়ে মারা যান বিমানটির পাইলট সহ। কিন্তু বাঁচতে পারেননি ফ্রানের সঙ্গে থাকা ফ্লাইট অ্যাটেন্ডডেন্ট, কারণ তিনি দূরে খালি জায়গায় পড়েছিলেন।

তিনি একটি বাসে ঘুরতে যাচ্ছিলেন এই ঘটনার প্রায় ৩ বছর পর, কিন্তু একটি নদীতে পড়ে যায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে , কোনোক্রমে বাস থেকে বাইরে বেড়িয়ে এসে সাঁতরে তীরে চলে আসেন, এবং বেঁচে যান। যদিও অনেক স্থানেই কেটে গিয়েছিল তার শরীরের।

ফ্রাঙ্ক তার ছোট ছেলেকে কিভাবে বন্দুক চালাতে হয় সেটি শেখাচ্ছিলেন এই ঘটনাটির প্রায় ২ বছর পর। কিন্তু বন্দুকটির সেফটি ট্রিগারটি যে খুলে গেছে তিনি জানতেন না, তিনি বন্দুকটি দ্রুত নীচের দিকে করেন এবং তার পুংযোনোনাঙ্গে লাগে বন্দুকের গুলি। ভাগ্যক্রমে তিনি আবার সুস্থ হয়ে যান চিকিৎসার পর।

এরপর তার গাড়িতে তিনি তার গন্তব্যে যাচ্ছিলেন ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে , কিন্তু তার গাড়ির ফিউয়েল ট্যাঙ্ক লিক করে আগুন লেগে যায় রাস্তাতেই। তিনি নিজেকে বাঁচিয়ে নিয়েছিলেন এই পরিস্থিতিতেও।

একটি বাস তাকে ১৯৯৫ সালে সজোরে ধাক্কা মারে, তিনি বেঁচে যান গুরুতরভাবে আহত হওয়ার পরও।

পাহাড়ের একটি বাঁকে তার গাড়ির সাথে একটি রাষ্ট্রসংঘের ট্রাক ধাক্কা লাগে এই ঘটনাটির প্রায় এক বছর পর। ফ্রানের গাড়ি এতে পাহাড় থেকে নীচের দিকে পড়তে ফ্রান তার সিট বেল্টটি যেহেতু খুলে রেখেছিলেন, নিচে পড়ার সময় নিজে থেকেই খুলে যায় গাড়িটির দরজা, তিনি তার গাড়ি থেকে দ্রুত ঝাঁপ দিয়ে দেন এবং তিনি দেখেন যে তার গাড়িটি প্রায় ৩০০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে গেছে। ফ্রান ঝাঁপ দিয়ে একটি গাছের ডাল ধরে ফেলেন পাহাড়ের ধারের। প্রায় তাকে ঘণ্টাখানেক পর পুলিশ এসে উদ্ধার করে, ততক্ষণ এভাবেই গাছের ডাল ধরে ঝুলে ছিলেন তিনি। তিনি প্রানে এবারেও বেঁচে যান।

কিন্তু তার উপর মানুষের বক্র-দৃষ্টি এতদিনে এসে পড়েছে। অশুভ কাজে পা বাড়ানো তার সাথে দেখা করা মানেই, এমনটাই ভাবতে থাকে মানুষজন। তার মুখ কেউই দেখতে চাইতেন না। তিনি অশুভ সবার চোখে। তিন বার বিয়েও করেছিলেন, স্থায়ী হয়নি একটি বিয়েও, কারণ একটাই, তিনি অশুভ। মৃত্যু অনিবার্য তার সাথে থাকলে। সবাই তার কাছে কথা বলা বন্ধ করে দেয় কয়েকজন বন্ধু ছাড়া। এমনকি যে গাড়িতে তিনি উঠতেন, অন্য কোনো মানুষ উঠতে চাইতেন না সেই গাড়িতে, একটা ভাবনা গেঁথে গিয়েছিল মানুষদের মধ্যে যে, ফ্রান যে গাড়িতে উঠবেন সেই গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়বেই।

এখানেই শেষ নয় মৃত্যুকে এতবার বোকা বানানোর পরও। ২০০৩ সালে ফ্রান তার ৭৩ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে একটি লটারি কাটেন তিনি ১.১ মিলিয়ন ডলার জিতেন ভাগ্যক্রমে।

Related posts

Breaking News! প্রয়াত রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় !

News Desk

অসুস্থ হয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একে একে মারা গেলেন একই পরিবারের তিনজন, নিতান্তই কাকতলীয়

News Desk

সমুদ্রে বেড়াতে গিয়ে আর ফেরা হলো না, সেলফি তুলতে গিয়ে ভয়ংকর পরিণতি ৮ জনের

News Desk