প্রাণী জগতের অনেক রহস্য আজও মানুষের কাছে অজানা। যেমন সামুদ্রিক প্রাণী অক্টোপাস। অনেক সময়ে খেয়াল করা গিয়েছে যে যৌন মিলনের পর একে অপরকে রীতিমতো আক্রমণ করে অক্টোপাসরা। এমনকি ডিম পাড়ার আগে খেয়ে নেয় পুরুষ অক্টোপাসটিকে। সামুদ্রিক প্রাণী বিশেষজ্ঞদের কাছে অক্টোপাসের এমন কর্মকাণ্ডের কারন আজও অজানা।
অক্টোপাসদের এই ব্যাবহার বাকি প্রাণীদের থেকে অনেকটাই আলাদা। দেখে মনে হয় যে তারা এই পৃথিবীরই নয়। তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করলেও এর অন্তর্নিহিত কারণ বিজ্ঞানীরা এতদিন খুজেঁ পায়নি। কিন্তু এবার আলোর দিশা দেখেছে বিজ্ঞানীরা।
বেশ কদিন আগের এক গবেষণায় এক তথ্য উঠে এসেছে, অক্টপাসরাই ডিম পাড়ার ঠিক আগের মুহূর্তেই সঙ্গীকে মেরে খেয়ে ফেলে। এক বিজ্ঞান পত্রিকা যার নাম ‘কারেন্ট বায়োলজি’, যেখানে প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে দেখা যাচ্ছে , মহিলা অক্টপাসের দেহে কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন আসে ডিম পাড়ার আগের মুহূর্তে। আর সে কারণেই তাদের আচরণে আমূল পরিবর্তন আসে।

যদিও পৃথিবীতে এমন অনেক প্রাণীই আছে অক্টপাস ছাড়াও যারা যৌনতার পরই মারা যায়। কিন্তু সেই মৃত্যুর কারণ গুলোও অদ্ভুত। কখনো কখনো নারী জীবটি তার সঙ্গীকে খেয়ে ফেলে। এমন অনেক সময় থাকে যখন পুরুষ প্রাণীটি তাঁর নারী সঙ্গীর আগ্রসনের কাছে হার মেনে মারা যায়।

এই ধরনের ঘটনায়, বিজ্ঞানীরা বলছেন যে ‘যৌনতা খাদক’ এই জীবগুলির একটি মৌলিক চাহিদার কারণে হয়। গর্ভাবস্থায়, মহিলা জীবের প্রচুর প্রোটিনের প্রয়োজন হয়, তাই প্রজননের পরেই এই মাকড়সাগুলি তাদের সঙ্গীকে খেয়ে ফেলে।
কিছু রিপোর্টে এটাও সামনে এসেছে যে কিছু মহিলা ঘটনাক্রমে পুরুষদের শিকার করে। এমনকি তাদের সমবয়সীদের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক এবং আকারে বড় হওয়ায় তারা তাদের হত্যা করে।
স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা সাপও প্রজননের পরে শ্বাসরোধ করে পুরুষ অ্যানাকোন্ডাকে হত্যা করে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করে। যেখানে আইসোপড নামক প্রাণীদের মধ্যে, পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই প্রজননের পরে একে অপরকে হত্যা করে।