ভারতীয় শিল্পপতিদের মধ্যে অন্যতম হলেন টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান রতন টাটা। তাকে চেনার জন্য আলাদাভাবে পরিচয়ের প্রয়োজন পড়েনা এ দেশের মানুষ দের। রতন টাটার বর্তমানে বয়স ৮৩ বছর, তবুও দিব্যি সফল ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
সুপুরুষের প্রকৃত উদাহরণ রতন টাটা। আর যে কোনও বলিউডি নায়ককে তাঁর যৌবনে চাইলে টেক্কা দিতে পারতেন। কেন অবিবাহিত রয়ে গেলেন এমন এক সফল সুপুরুষ ?
রতন টাটা আগে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, যৌবনে একজনকে ভালো লেগেছিল। তবে পূর্ণতা পায়নি সে ভালোবাসা। সেটি এতদিন পর জানান কেন পূর্ণতা পায়নি। তবে ‘হিউম্যানস অব বোম্বে’ নামের একটি ফেসবুক পেজে এবার সেই তথ্য জানালেন। সেখানে রতন টাটা নিজের বাবা-মায়ের ডিভোর্স নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেন।

রতন টাটা লিখেছেন, ছোটবেলা কেটেছিল বেশ হাসিখুশিই। বড়ো হতেই বাবা মায়ের বিচ্ছেদ দেখতে হল। তখনকার দিনে চল ছিল না বিবাহবিচ্ছেদের । আমার দায়িত্ব ঠাকুমা নেন। স্কুলে বন্ধুদের কাছে বক্রোক্তি শুনতে হতো মা ফের বিয়ে করার পর। কিন্তু ঠাকুমা শিখিয়েছিলেন মূল্যবোধ ধরে রাখতে।
রতন টাটা জানিয়েছেন, তাঁদের দুই ভাইকে গ্রীষ্মের ছুটিতে লন্ডনে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁদের ঠাকুমা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। আর সেখানে ভারতের অন্যতম সফল ব্যবসায়ীর মূল্যবোধ তাঁর হাতেই তৈরি হয়েছিল। রতন টাটা জানিয়েছেন,তাঁদের ঠাকুমাই শিখিয়েছিলেন, ‘সবকিছুর ঊর্ধ্বে মর্যাদাবোধ’, যা এখনও তাঁর মনে গেঁথে আছে।
পড়াশোনা নিয়ে মতপার্থক্যও হয়েছিল রতন টাটার বাবা নাভাল টাটার সঙ্গে। তিনি স্থাপত্যবিদ্যা পড়তে চেয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলেজে। বাবা জোর দিয়েছিলেন, ইঞ্জিনিয়ার পড়ার জন্য যুক্তরাজ্যের কলেজে। তখনও, তাঁর ঠাকুমা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
এরপরই রতন টাটা নিজের ভালোবাসার মানুষটির কথা স্মরণ করেছেন । বলেছেন, প্রেমে পড়েছিলাম লস অ্যাঞ্জেলসে। প্রায় বিবাহ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তখনই সাময়িকভাবে ফিরে আসতে বাধ্য হলাম অসুস্থ ঠাকুমার জন্য। ভেবেছিলাম, যাকে ভালোবাসি ভারতে চলে আসবেন তিনি। কিন্তু ইন্দো-চীন যুদ্ধ চলায় ১৯৬২ সালে তার অভিভাবকরা এ দেশে আসার অনুমতি দেননি। বেঁকে বসেন তাঁদের মেয়ের ভারতে আসার বিষয়ে। আর সেই সুন্দর সম্পর্কও ভেঙে যায় তার জেরে। ভারতের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী অবিবাহিতই থেকে যান।