স্বামী জড়িয়ে পড়েছে পরকীয়া সম্পর্কে। ওই ব্যক্তির স্ত্রী আর পরিবারের বাকি সদস্যরা আচমকাই রাস্তার মাঝে স্বামী ও তার বান্ধবীকে একেবারে হাতে নাতে ধরে ফেলে। ঠিক এরপরই শুরু হয় অশান্তি। তাদের দুজনকে ধরে গণধোলাই দেওয়া হয়। পুলিশ এসে ঝামেলা কিছুটা সামলে নেন। নামখানায় থানার নারায়ণপুর ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া বাসস্ট্যান্ড চত্বর সোমবার ভরদুপুর বেলা এরকমই ঘটনা দেখতে পেল।
অভিযুক্ত স্বামীর নাম সমরেশ এই সময় ডিজিটালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অনুযায়ী।বাড়িতে স্ত্রী এবং দুই সন্তান থাকা সত্ত্বেও পাথরপ্রতিমা ব্লকের গোপাল নগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা সমরেশ অন্য এক মহিলার সাথে পরকিয়ায় মজেছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর স্ত্রী সুপর্ণাদেবীর। সমরেশের স্ত্রী ও এলাকার লোকজন পরিবারের সাথে মিলে সেই রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটান ওদের দুজনকে একসাথে ধরতে পেরে।

সুপর্ণাদেবী জানিয়েছেন, দীর্ঘ বছর ১৮ এর বৈবাহিক সম্পর্ক সমরেশের সাথে। বাড়িতে ১৫ বছরের এক কন্যাসন্তান এবং ১০ বছরের এক পুত্রসন্তান ও বিধবা শাশুড়ি রয়েছেন তাঁদের। অনেকদিন ধরেই সমরেশ বাবু এই পরকীয়া সম্পর্কে যুক্ত আছেন। কোনরকম খোঁজ-খবর নেয় না এবং দায়িত্ব নিচ্ছেন না স্ত্রী, মা এবং সন্তানের। অতি কষ্টে দিনযাপন করছে সমরেশের বিবাহিত স্ত্রী সুপর্ণাদেবী দুই সন্তান এবং বিধবা শাশুড়িকে নিয়ে।
আরও বেশ কিছু অভিযোগ আছে সুপর্ণা দেবীর , যে সমরেশের সঙ্গে ওই মহিলার পরকীয়া সম্পর্ক, বারবার ফোন করে তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে ওই মহিলা। সমরেশের বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে বা কোর্টে গিয়ে কোনরকম মামলা করা হলে তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে ফোন করে জানিয়েছে ওই মহিলা। দুই সন্তান এবং বিধবা শাশুড়িকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের জীবন বাঁচানোর তাগিদে এখনও পর্যন্ত থানায় কোনরকম অভিযোগ দায়ের করেননি সুপর্ণাদেবী স্বামীর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ যে শুধু সুপর্ণা দেবীর এমনটাও নয়, একই অভিযোগের সুর চড়িয়েছেন সমরেশের মা বোন এবং অন্যান্য আত্মীয় বন্ধু-বান্ধব সমরেশের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, সমরেশের বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কে যুক্ত থাকা প্রেমিকা জানিয়েছেন , যে তার বছর খানেক আগেই সমরেশের সঙ্গে বিবাহ হয় এবং সমরেশ আগে থেকেই বিবাহিত সে জানত না।
তবে সুপর্ণাদেবী কথা অনুযায়ী , বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ত্যাগ করে স্বামী যদি তাঁর কাছে ফিরে আসে তাহলে তিনি স্বামীকে মেনে নিয়ে পুনরায় সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাবেন দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে। যদিও সমরেশের তরফে তার স্ত্রী, পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে কিছুই বলেনি। সমরেশকে ত্যাগ করতে চাননা ওই মহিলাও। তবে গোপাল নগর গ্রাম পঞ্চায়েত বিষয়টির মীমাংসা করতে সালিশি সভার ব্যবস্থা করেছে।