ভারতে কোভিড ১৯ এর তৃতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ ক্রমশঃ কমছে। কিন্তু, যদি সামগ্রিক ভাবে এশিয়ার করোনা সংক্রমনের বিষয়ে কথা বলতে হয় তাহলে অত্যন্ত উদ্বেগ সৃষ্টি করছে প্রাপ্ত তথ্য। বুধবার পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, এশিয়াতে বর্তমানে কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১০০ মিলিয়ন পার করেছে। এশিয়ার যে সব অঞ্চলে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে সেখানে দু’দিনের ব্যবধান অন্তরই নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ, এমনটাই বলছে একটি গবেষণা। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার নিরিখে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে মোট করোনা আক্রান্তর ২১ শতাংশই এশিয়ার বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, করোনার অতি সংক্রামক প্রজাতি ওমিক্রন ভ্যারিয়্য়ান্টের সাব ভ্যারিয়্যান্ট BA.2 এই মুহূর্তে সারা পৃথিবীতে বহু দেশেই দাপট দেখাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, চিন, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশে এই মুহূর্তে আছড়ে পড়েছে করোনার চতুর্থ ঢেউ এর কবলে রয়েছে। এই দেশগুলির মোট আক্রান্তর মধ্যে ৮৬ শতাংশই ওমিক্রণের BA.2 ভ্যারিয়্যান্টে আক্রান্ত বলে জানা যাচ্ছে।
এছাড়াও যা জানা গিয়েছে, দৈনিক সংক্রমনের নিরিখে এই সময়ে দাড়িয়ে এক নম্বর জায়গায় রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। মার্চ মাসের শুরুর দিকে কিছুটা করোনা সংক্রমণ কমলেও এখনও এই দেশে প্রতিদিন করোনার করাল হানায় প্রাণ হারাচ্ছ ৩০০ জন। অন্যদিকে, করোনাভাইরাসের সঙ্গে ফের ঝুঝছে চিন। জানা যাচ্ছে, প্রথম করোনার পর দু’বছরে এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি প্রথম হচ্ছে চিন।

২০২১ সালের শুরুর থেকে এখনও অবধি চিনে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার জন, তথ্য বলছে এমনটাই। ওমিক্রনের কারণে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ ধাক্কা দিয়েছিল দেশে। কিন্তু, তা এখন ভারতীয়দের জন্য অনেকটাই ফিকে হয়েছে। ধীরে ধীরে স্তিমিত হচ্ছে করোনা সংক্রমণ।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১ হাজার ২২৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। এই সময়ে করোনা কে হারিয়ে সুস্থতা লাভ করেছেন ১ হাজার ৫৯৪ জন। বর্তমানে দেশে অ্যাক্টিভ করোনা রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৩০৭। দেশে প্রবীণদের বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যাকেও যাতে করোনার বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়, সেজন্য ভাবনা চলছে বলেও জানা যাচ্ছে।